ভয়ংকর ভুতের গল্প (ভয়ংকর হাভেলি (পর্ব-২) )
দ্বিতীয় পর্ব,,, আব্দুল্লাহ ধিরে ধিরে এগিয়ে গিয়ে সেই কক্ষের সামনে দাঁড়ায়। পুরো রুম অন্ধকার কিন্তু জানালার পর্দায় ফুটে উঠেছে দুই নর নারীর অবয়ব। তারা কিছু একটা নিয়ে খুব ঝগড়াঝাটি করছে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে পুরুষ অবয়ব টি একটা ফুলদানি দিয়ে নারী অবয়বটির মাথায় একের পর এক আঘাত করতে থাকে। নারীমূর্তি টি গলা ফাটিয়ে চিতকার করে যাচ্ছে কিন্তু পুরুষ টি থামছে না। শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করছে নারীটিকে। এক পর্যায়ে রমনীর চিতকার বন্ধ হয়ে মুখ দিয়ে গোঙানোর আওয়াজ বেরুতে থাকে। পুরুষটি এবার সেখান থেকে সরে যায়,, তারপর পাশের টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটা চাপাতি বেড় করে। সেই চাপাতি দিয়ে এবার রমনীর বুকে কোপাতে থাকে। গোঙানির স্বর বৃদ্ধি হয়ে যায়। পুরুষটি থামছেনা অনবরত কুপিয়ে যাচ্ছে। এবার পুরো নিস্তব্ধতায় ছেয়ে যায়। মহিলাটির মুখ দিয়ে আর কোনো আওয়াজ বেরুচ্ছে নাহ। পুরুষ টি এখনো খ্যান্ত হয়নি,, তার শরীর অনবরত রাগে কাঁপছে,, সে এবার বর্বরতার সীমা লঙ্ঘন করে রমনীর শরীরের অঙ্গ গুলো কুপিয়ে আলাদা করতে থাকে। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড চোখের সামনে হতে দেখছিলো আব্দুল্লাহ। সে অনুভব করলো তার কলিজায় অস্বাভাবিক কাঁপন উঠেছে,, বুক হাসফাস লাগছে,, রক্তনালী টান টান হচ্ছে,, গলা পাকিয়ে বমি আসতে চাইছে।। কোনো রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে আবারও পর্দায় চোখ রাখে। এবার পুরুষটি তার সবচেয়ে ঘৃনিত রুপ দেখালো!! সে রমনীর শরীরের নরম মাংস পিন্ডটি পিচ পিচ করে কেটে একটা প্লেটে সাজিয়ে নিলো। তারপর দেয়ালে হেলান দিয়ে তা পরম আয়েশে চিবাতে লাগলো। তাকে দেখে মনে হচ্ছে খুব সুস্বাদু কোনো খাবার সে গলদকরণ করছে। প্লেটের মাংস সাবাড় করে সে আবারও চাকু ঘুরিয়ে রমনীর দিকে আগায়...!! এবার আর আব্দুল্লাহ সহ্য করতে পারলো না সে ওয়াক করে বমি করে দিলো। অন্ধকারে ঠাহর না হলেও নোনতা স্বাদে আব্দুল্লাহ বুঝতে পারে তার মুখ দিয়ে রক্তবমি হলো।। আব্দুল্লাহর মুখ থেকে বেরুনো শব্দ অনুসরণ করে ছায়াটি ভয়ংকর চাহনিতে আব্দল্লাহর দিকে তাকায়।। আব্দুল্লাহ সেদিকে তাকাতেই তার কলিজা কেঁপে উঠে,, আব্দুল্লাহ ভয়ে পিছিয়ে যেতে নিলেই সে দেখে ছায়াটি দেয়াল বেয়ে তার দিকেই দৌড়ে এগিয়ে আসছে। এবার আব্দুল্লাহ ভয়ে চিতকার দিয়ে দৌড় শুরু করলো।। কিন্তু ছায়াটি একটার পর একটা দেয়ালে গড়িয়ে আব্দুল্লার পিছু করছে। আব্দুল্লাহ প্রাণপনে ছুটে চলেছে,, সে কোণার একটা কক্ষে প্রবেশ করে খাটের নিচে লুকিয়ে পরে। আবছা আলোয় দেখতে পায় ছায়াটি কক্ষে প্রবেশ করেছে। তাকেই খুজছে,, আব্দুল্লাহ দোয়া দুরুদ পরছে,, আর আল্লাহ কে ডাকছে। হঠাৎ সে অনুভব করলো লাল টকটকে দুটি চোখ খাটের নিচে তার বাম পাশে তার সাথেই শুয়ে আছে,, আর লাল চোখ গুলো দিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।। আব্দুল্লাহ ভয়ে ঢুক গিললো,,।। তারপর ঘাড় কাত না করেই চোখ ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই তার কলিজায় মুচড় দিয়ে উঠলো। এবার তার কণ্ঠনালী জমে বরফ হয়ে গেছে। হা করে চিতকার দিলেও তা মুখ দিয়ে বেরিয়ে কান অব্দি পৌছালো নাহ। আব্দুল্লাহ ভয়ে ঢুক গিলে চোখ বন্ধ করে নেয়। সে অনুভব করে ছায়াটি তার পিঠে ঠান্ডা হাত রেখেছে। তারপর তার কানের কাছে মুখ নিয়ে একটা নারী কণ্ঠ বলে উঠে...!! ভয় পেয় না আব্দুল্লাহ! তুমি যাকে ভাবছো আমি সে নয়।। এবার আব্দুল্লাহ কান খাড়া করে আবারও শুনার চেষ্টা করলো সেকি ভুল শুনেছে নাকি এটা সত্যি তার সাথে কথা বললো?? কণ্ঠস্বরটি আবারও বলে উঠলো ;; আমি নুরি,, কিছুক্ষণ আগে যেই বিভৎস হত্যাকাণ্ড টি চোখের সামনে দেখলে সেটি আমার সাথেই হয়েছে। আব্দুল্লাহ চোখ খুলে নুরির দিকে তাকায়। এবার তার ভয় লাগছে না বরং সে অবাক হয়েছে। ভয়ংকর চোখ দুটো গায়েব হয়ে চিত্রের সেই রমনীটি তার সামনে শুয়ে আছে। অদ্ভুত এক ভালো লাগা আর বিষাদ এক সাথে কাজ করে গেলো আব্দুল্লাহর মনে। রমনীটি আবারও বললো এবার বাইরে বেরুও সে চলে গেছে। বাইরে বের হয়ে বাকি কথা বলছি। আব্দুল্লাহ বেরিয়ে আসে খাটের নিচ থেকে। সে লক্ষ্য করে রুমে সুন্দর করে মোমবাতি সাজানো। খাটে ফুল দিয়ে সাজিয়ে বেডসিটের উপর গোলাপের পাপড়ি দিয়ে লাভ সেইপ আঁকা। মাঝে দুটো অক্ষর প্রথম টা এ এবং দ্বিতীয় টা এন। আব্দুল্লাহ ভ্রু কোচকে বলে এই রুমে হঠাৎ করে এমন সাজানো কেমন করে হলো? আগে তো ছিলোনা!! নুরি খিলখিল করে হেসে বলে আজ আমাদের বাসর হবে তাই এমন করে সাজিয়ে নিয়েছি। মানে?? ক কি বলছেন আপনি?? নুরি আবারও খিলখিল করে হেসে বলে বাব্বাহ এতো ভয়? আমি মজা করছিলাম।। ভুতেরাও বুঝি মজা করে?? ভুত?? নাকি পেত্নী?? হবে একটা!! অহ তাহলে আপনি দেখছি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন। কি?? এই যে ভুত প্রেতে!! কই নাতো!! তাহলে?? এতোক্ষণ বুঝি ভয় পাওয়ার নাটক করছিলেন?? আরে ওসব হঠাৎ চোখের সামনে ঘটলে তো যে কেউ-ই ভয় পাবে। তাছাড়া আমি এসবে বিশ্বাস করিনা। সত্যি?? আরে হ্যাঁ সত্যি। বলে কিছুটা অপ্রস্তুত হলো আব্দুল্লাহ কারণ তার বুক এখনো ধুকপুক করছে। সে মিথ্যা বলছে সে আসলে সত্যিই ভয় পেয়েছে,, ভয়ের চুটে তার কলিজা মুখে চলে আসছিলো।। ঠিক আছে আর ভয় পেতে হবেনা কলিজা আবার গিলে ফেলেন। কতক্ষণ আর মুখে কলিজা নিয়ে ঘুরবেন?? মুখে দুষ্ট হাসি নিয়ে চোখ বাকিয়ে কথাটা বললো নুরি..! আব্দুল্লাহ খানিক লজ্জা পেলো। নিজের মধ্যে গম্ভীর ভাবটা ফুটিয়ে তুলতেই পারছেনা তার এখনো হাসফাস লাগছে,, চোখের সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে কি আধৌ মানুষ নাকি?? না না এ আমি কি ভাবছি ভুত প্রেত বলে তো কিছুই নেই সব মনের ভ্রান্তি তাহলে কি ভাবছি ছি ছি...!! নুরি বলে দাঁড়িয়েই থাকবেন নাকি বসবেন?? আব্দুল্লাহ না তাকিয়েই বললো ঠিক আছে বসুন বসে কথা বলি।। তারা দুইজন ই পাশাপাশি দূরত্ব রেখে খাটের এক পাশে বসে। আব্দুল্লাহ গলা কেশে বলে তা আপনি এই অন্ধকার হাভেলিতে রাতে কি করছেন?? আমি যদি একই প্রশ্ন আপনাকে করি আপনার কি উত্তর হবে?? আব্দুল্লাহ পূর্ণ দৃষ্টি দেয় নুরির দিকে,, তারপর হালকা হেসে বলে আমার পাগলিটার চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্ট করে এখানে এসেছি। কেন?? এই হাভেলির রহস্য উদঘাটন করতে।। এই টুকু কলিজা নিয়ে?? লজ্জা দিচ্ছেন?? কই নাতো!! এবার আমার প্রশ্নের উত্তর দিন?? আমি এখানে আসিনি৷ এটা আমার হাভেলি আমি যুগ যুগ ধরে এই হাভেলিতেই বাস করি।। আব্দুল্লাহ শক্ত মুখে তাকিয়ে হেসে দিলো তারপর বললো তা মিস এই নাটকের জন্য আমার প্রেমিকা আর বন্ধু আপনাকে কত পারিশ্রমিক দিয়েছে?? নাকি ফ্রিতেই করছেন?? কোনো ভাবে ফিরকি নিচ্ছেন নাতো আমার সাথে?? নুরি রহস্য করে হেসে বলে আপনার প্রেমিকা যে আপনার বন্ধুর সাথে সেটিং করে নিয়েছে তা কি আপনি জানেন?? কি বলছেন কি?? মুখ সামলিয়ে কথা বলুন।। তাসলিমার প্রতি আমার যথেষ্ট বিশ্বাস আছে। আর আমান আমার জিগরী দোস্ত তাই এই সব আজেবাজে কথা বলা বন্ধ করুন নয়তো।। নয়তো কি?? আব্দুল্লাহ রেগে বলে আপনাকে মেরে দিবো।। নুরি খিলখিল করে হাসে তার হাসির শব্দে হাভেলি কেঁপে উঠে,, আকাশের চাঁদ কালো মেঘে ঢেকে যায়,, দূরের একটা শেয়াল হুক্কা হুয়া বলে ডেকে ওঠে..!! দৃশ্য চলে যায় প্রাসাদের বাইরে...!! তাসলিমা হাভেলির গেইট অতিক্রম করার পরই দেখে ফোয়ারার পাশে অবচেতন অবস্থায় পরে আছে আমান। সে দৌড়ে এসে আমানের মুখে থাপ্পড় মেরে জাগিয়ে তুলে..!! আমান থাপ্পড় খেয়ে গাল ডলতে ডলতে উঠে বসে। হঠাৎ চোখের সামনে তাসলিমা কে দেখে সে চিক্কুর দিয়ে উঠে..! তাসলিমা আরেকটা চড় বসিয়ে দেয় আমানের গালে। আমান গালে হাত দিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে এটা তো কথা ছিলো না!! এই থাপ্পড় দুটো তো স্ক্রিপ্টে ছিলোনা!! তাসলিমা রেগে বলে অকর্মন্য তুই এভাবে পরে পরে ঘুমাবি এটাও তো কথা ছিলো নাহ।। আমান বলে তুই তুকারি করছো কেন?? আমাদের সম্পর্ক তো তুমিতে আবদ্ধ,, তুই তুকারি তো ছিলোনা কখনো।। ছিলোনা এখন থেকে থাকবে। এখন বল আব্দুল্লাহ কোথায়?? আব্দুল্লাহ,, আব্দুল্লাহ!! আমার কিছু মনে নেই তাসলিমা আমরা যখন হাভেলিতে প্রবেশ করি সব প্লান মুতাবেকই চলছিলো কিন্তু হঠাৎ কি থেকে কি হয়ে গেছে আমি জানিনা। আব্দুল্লাহ কোথায় আমি দেখিনি,, আর আমি এখানে অজ্ঞান কেমনে হলাম আমি জানিনা।। তাসলিমা হাত ঘরিতে দেখে বলে এখন বাজে সাড়ে তিনটা। লিজামনি কোথায়?? তাকে কি কাজে লাগিয়েছো?? দৃশ্য চলে যায় হাভেলির ভেতরে...!! আব্দুল্লাহ রাগে গজগজ করছে। তার কানকে সে বিশ্বাস করাতে পারছেনা। তারমানে তাসলিমা আর আমান একসাথে?? ছিহহহহহ!! চলবে??